নতুন ভোটার নিবন্ধন শুরু হওয়ার পর অনেকেই ভোটার নিবন্ধন করেন এবং ছবি তোলেন। তাদের মাঝে অনেকেই জানতে চান যে ছবি তোলার কতদিন পর এনআইডি কার্ড পাওয়া যায়। এই বিষয়টি জানতে পারবেন এই পোস্টে।

সাধারণত ভোটার নিবন্ধন শুরু হলে প্রায় প্রতিটি এলাকাতে নতুন অনেকেই নিবন্ধন করে থাকেন ভোটার হওয়ার জন্য। তাদের ছবি সহ বায়োমেট্রিক তথ্য নেয়ার পর ১ মাস বা এর অধিক সময় পেড়িয়ে গেলেও তারা এসএমএস পান না। যারা ছবি তুলেছেন কিন্তু এখনো এনআইডি কার্ড পাননি, তারা এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ুন।

এতে করে, ছবি তোলার কতদিন পর ভোটার আইডি কার্ড পাওয়া যায় এবং অনলাইন কপি ডাউনলোড করা যায় এসব বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবেন।

ছবি তোলার কতদিন পর এনআইডি কার্ড পাওয়া যায়

ছবি তোলার ০১ মাস থেকে শুরু করে ০৩ মাসের মাঝেই এনআইডি কার্ড পাওয়া যায়। এনআইডি কার্ড পাওয়ার জন্য অনলাইন থেকে ভোটার আইডি কার্ড চেক করে দেখতে হবে ভোটার আইডি কার্ড হয়েছে কিনা। এরপর, চাইলে ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করে সেটি লেমিনেটিং করে ব্যবহার করা যাবে।

ভোটার নিবন্ধন ফরম পূরণ করে জমা দেয়ার অনেকদিন পর ছবি তোলার জন্য ডাকা হয়ে থাকে। ছবি তোলা সম্পন্ন হওয়ার ১ মাস থেকে এর বেশি সময় পেড়িয়ে গেলেও অনেকেই এসএমএস পান না। সাধারণত যাদের ভোটার আইডি কার্ড তৈরি হয়ে যায়, তাদেরকে এসএমএস করে এনআইডি কার্ডের নাম্বার জানিয়ে দেয়া হয়।

যারা ছবি তুলেছেন কিন্তু এখনো এসএমএস পাননি, তারা ভেবে থাকেন যে এনআইডি কার্ড হয়নি বা কবে এনআইডি কার্ড পাবো। এনআইডি কার্ড সাধারণত ১ মাস থেকে ৩ মাসের মাঝে তৈরি হয়ে থাকে। তবে, যান্ত্রিক সমস্যার কারণে অনেক সময় সবাইকে এসএমএস দেয়া সম্ভব হয়না।

এজন্য, আইডি কার্ড তৈরি হয়ে গেলেও অনেকেই এসএমএস এর মাধ্যমে আইডি কার্ডের নাম্বার জানতে পারেন না। এজন্য, অনলাইন থেকে জাতীয় পরিচয় পত্র যাচাই করে দেখতে হবে জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরি হয়েছে কিনা। তৈরি হয়ে থাকলে সেটি ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যাবে।

ছবি তোলার কতদিন পর অনলাইন কপি পাওয়া যায়

এনআইডি কার্ডের জন্য ছবি তোলার ১-৩ মাসের মাঝেই অনলাইন থেকে এনআইডি কার্ডের অনলাইন কপি ডাউনলোড করা যায়। যাদেরকে এসএমএস করে ভোটার আইডি কার্ডের নাম্বার জানিয়ে দেয়া হয়েছে, তারা অনলাইন থেকে ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করতে পারবেন।

যাদেরকে এসএমএস করা হয়নি, তারা অনলাইন থেকে ভোটার আইডি কার্ড তৈরি হয়েছে কিনা চেক করার মাধ্যমে জানতে পারবেন আপনার আইডি কার্ড হয়েছে কিনা। আইডি কার্ড তৈরি হলে ভোটার আইডি কার্ডের অনলাইন কপি ডাউনলোড করতে পারবেন।

যাদেরকে এসএমএস করা হয়নি, তারা ভোটার স্লিপ নাম্বার এবং জন্ম তারিখ ও অন্যান্য তথ্য দিয়ে ভোটার আইডি কার্ড যাচাই করতে পারবেন। নিচে আরও বিস্তারিত পদ্ধতি উল্লেখ করে দেয়া হয়েছে।

অনলাইনে এনআইডি কার্ড যাচাই

আপনি যদি ছবি সহ সকল বায়োমেট্রিক তথ্য দিয়ে থাকেন কিন্তু এখনো ভোটার আইডি কার্ডের নাম্বার সহ এসএমএস না পেয়ে থাকেন, তাহলে অনলাইনে এনআইডি কার্ড যাচাই করার মাধ্যমে আপনার ভোটার আইডি কার্ড হয়েছে কিনা জানতে পারবেন। এছাড়াও, এসএমএস এর মাধ্যমেও ভোটার আইডি কার্ড হয়েছে কিনা জানতে পারবেন।

অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড চেক করার জন্য https://services.nidw.gov.bd/nid-pub ওয়েবসাইট ভিজিট করতে হবে। এরপর, রেজিস্টার করে ভোটার স্লিপ নাম্বার এবং জন্ম তারিখ লিখতে হবে। অতঃপর, বাকী ধাপগুলো পূরণ করে আইডি কার্ড হয়েছে কিনা জানতে পারবেন।

ভোটার স্লিপ নাম্বার দিয়ে ভোটার আইডি কার্ড চেক করার জন্য NIDFN শুরুতে লিখতে হবে এবং স্পেস না দিয়ে ভোটার স্লিপ নাম্বার লিখতে হবে। (যেমন – NIDFN7385959494)

আইডি কার্ড হয়ে থাকলে ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করতে পারবেন অনলাইনে। ভোটার আইডি কার্ডের অনলাইন কপি ডাউনলোড করে সেটি লেমিনেটিং করে ব্যবহার করতে পারবেন।

এসএমএস এর মাধ্যমে এনআইডি কার্ড যাচাই

ছবি তোলার পর এসএমএস এর মাধ্যমে এনআইডি কার্ড হয়েছে কিনা চেক করার জন্য NID FORM_NO DD-MM-YYYY ফরম্যাট এ একটি এসএমএস লিখতে হবে এবং 105 নাম্বারে সেন্ড করতে হবে। এরপর, ফিরতি ম্যাসেজে এনআইডি কার্ড তৈরি হলে এনআইডি কার্ডের নাম্বার জানিয়ে দেয়া হবে। অতঃপর, উপরের পদ্ধতি অনুসরণ করে এনআইডি কার্ড পাওয়া যাবে।

মোবাইলের ম্যাসেজ অপশন ওপেন করে NID 1234567899 02-05-2001 ফরম্যাট এ একটি এসএমএস লিখতে হবে। NID লেখার পর আপনার ভোটার নিবন্ধন স্লিপে টাকা নাম্বার লিখবেন এবং পরে জন্ম তারিখ লিখবেন। এরপর, এসএমএসটি সেন্ড করতে হবে 105 নাম্বারে।

এই পদ্ধতি দুইটি অনুসরণ করার মাধ্যমে জানতে পারবেন আপনার ভোটার আইডি কার্ড তৈরি হয়েছে কিনা। এরপর, চাইলে অনলাইন থেকেই ভোটার আইডি কার্ডের অনলাইন কপি ডাউনলোড করতে পারবেন।

ভোটার আইডি কার্ড পেতে কতদিন লাগে ২০২৪

ভোটার আইডি কার্ডের নিবন্ধন করার পর ছবি সহ সকল বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান করা হলে, ভোটার আইডি কার্ড পেতে ১ মাস থেকে শুরু করে ৩ মাস পর্যন্ত সময় লেগে থাকে। এই সময়ের মাঝে অনেককেই এসএমএস করে ভোটার আইডি কার্ডের নাম্বার জানিয়ে দেয়া হয়।

যাদেরকে এসএমএস করে ভোটার আইডি কার্ডের নাম্বার জানিয়ে দেয়া হয়নি, তারা চাইলে উপরে উল্লেখ করে দেয়া ভোটার আইডি কার্ড যাচাই করার পদ্ধতি অনুসরণ করে এনআইডি কার্ড হয়েছে কিনা জেনে নিতে পারবেন।

FAQ

Nid কার্ড করতে কতদিন লাগে?

NID কার্ড এর জন্য ভোটার নিবন্ধন ফরম পূরণ করার পর ছবি সহ বায়োমেট্রিক তথ্য দিতে হয়। এই তথ্যগুলো দেয়ার পর এনআইডি কার্ডের অনলাইন কপি পেটে ১ মাস থেকে শুরু করে ৩ মাস পর্যন্ত সময় লেগে থাকে। এই সময়ের মাঝে আপনার ভোটার স্লিপ নাম্বার এবং জন্ম তারিখ দিয়ে NID Card Check করতে পারবেন।

বাংলাদেশের বাইরে থেকে কিভাবে nid এর জন্য আবেদন করব?

বাংলাদেশের বাইরে থেকে NID কার্ডের জন্য আবেদন করতে হলে আপনাকে নতুন ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে। ব্যক্তিগত তথ্য, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, বায়োমেট্রিক তথ্য সকল সকল তথ্য জমা দেয়ার পর অনলাইনে আবেদন করা যাবে।

অনলাইনে এনআইডি কার্ডের ছবি তোলা সম্ভব?

অনলাইনের মাধ্যমে এনআইডি কার্ডের জন্য ছবি তোলা সহ বায়োমেট্রিক তথ্য দেয়া সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশনের অফিসে উপস্থিত হয়ে ছবি তোলা এবং অন্যান্য বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান করতে হবে।

এনআইডি কার্ড করতে কত টাকা লাগে?

নতুন এনআইডি কার্ড করতে কোনো টাকা লাগেনা। তবে, ভোটার নিবন্ধন শুরু হলে আবেদন করার সময় বকেয়া ট্যাক্স থাকলে তা পরিশোধ করে নাগরিকত্ব সনদ জমা দিতে হয়।

সারকথা

ছবি তোলার কতদিন পর এনআইডি কার্ড পাওয়া যায় এবং ছবি তোলার কতদিন পর অনলাইন কপি পাওয়া যায় এই দুইটি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত তথ্য শেয়ার করেছি এই পোস্টে। যারা জাতীয় পরিচয় পত্রের জন্য ছবি তুলেছেন, তারা ১ মাস থেকে ৩ মাসের মাঝে অনলাইন থেকে NID Card Download করতে পারবেন।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *