নতুন ভোটার হতে চাচ্ছেন কিন্তু নতুন ভোটার হতে কি কি লাগে জানেন না? আজকের এই ব্লগে আপনাদের সাথে নতুন ভোটার হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কী কী লাগে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

নতুন ভোটার হতে সাধারণত জন্ম নিবন্ধন সনদ, নাগরিক সনদ পত্র, পিতা-মাতার এনআইডি কার্ডের ফটোকপি, ইউটিলিটি বিলের কপি, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রের ফটোকপি সহ আরও কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লাগে।

তো চলুন, নতুন ভোটার হতে কি কি লাগে 2024 সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে নেয়া যাক।

নতুন ভোটার হতে কি কি লাগে

নতুন ভোটার হতে চাইলে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ পত্র, পিতা-মাতার এনআইডি কার্ডের ফটোকপি, নাগরিক সনদপত্র, ইউটিলিটি বিলের কপি, জন্ম নিবন্ধন সনদ, রক্তের গ্রুপ টেস্টের রিপোর্ট, হোল্ডিং ট্যাক্স রশিদ ইত্যাদি কাগজপত্র লেগে থাকে।

নতুন ভোটার আবেদন করার সময় উপরোক্ত এই ডকুমেন্টগুলো সাবমিট করতে হয়। অনলাইনে নতুন ভোটার আবেদন করতে কিংবা ভোটার আবেদন শুরু হলে সেখানে আবেদন করার জন্য উপরোক্ত এই প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো লেগে থাকে।

নতুন ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করতে যেসব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লাগে তা নিয়ে নিচে আরও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। চলুন, আরও বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।

নতুন ভোটার হতে কি কি লাগে ২০২৪ তালিকা

নতুন ভোটার হতে চাইলে নতুন ভোটার আবেদন করার সময় নিম্নোক্ত কাগজপত্রগুলো লেগে থাকে —

  • শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ পত্র
  • পিতা-মাতার এনআইডি কার্ডের ফটোকপি
  • নাগরিক সনদপত্র
  • ইউটিলিটি বিলের কপি
  • জন্ম নিবন্ধন সনদ
  • রক্তের গ্রুপ টেস্টের রিপোর্ট
  • হোল্ডিং ট্যাক্স রশিদ
  • স্বামী/স্ত্রীর এনআইডি কার্ডের ফটোকপি

নতুন ভোটার হতে চাইলে ভোটার আবেদন করার সময় উপরের এই তালিকায় উল্লেখ করে দেয়া প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সমূহ লেগে থাকে। নিচে এগুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

Telegram ChannelJoin Telegram
Facebook PageFollow on Facebook

জন্ম নিবন্ধন সনদ

এনআইডি বা ভোটার আইডি কার্ডের জন্য আবেদন করতে চাইলে আপনার জন্ম সনদ থাকতে হবে। জন্ম সনদের ১৭ ডিজিট বা অনলাইন ভার্সনটির ফটোকপি করে আবেদন ফরমের সাথে জমা দিতে হবে। জন্ম নিবন্ধন সনদ অনলাইন করা না থাকলে অনলাইন করে নিতে পারবেন সহজেই।

পিতা-মাতার এনআইডি কার্ডের ফটোকপি

নতুন ভোটার আবেদন করার সময় পিতা-মাতার এনআইডি কার্ডের ফটোকপি জমা দিতে হবে। আমাদের জাতীয় পরিচয় পত্রে পিতা এবং মাতার নাম যুক্ত করা হয়। তাই, পিতা-মাতার নাম ঠিক আছে কিনা এবং যাচাই করার জন্য পিতা-মাতার এনআইডি কার্ডের ফটোকপি নেয়া হয়।

নতুন ভোটার আবেদন করার সময় অবশ্যই আপনার পিতা এবং মাতার এনআইডি কার্ডের ফটোকপি জমা দিবেন।

নাগরিক সনদপত্র

আপনি যে বাংলাদেশের একজন নাগরিক তা প্রমাণ করার জন্য আপনার ইউনিয়ন পরিষদ/সিটি কর্পোরেশন থেকে একটি নাগরিক সনদপত্র সংগ্রহ করবেন। এরপর, এই নাগরিক সনদপত্র জমা দিতে হবে নতুন ভোটার আবেদন করার সময়।

নাগরিক সনদপত্র ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের কাছে থেকে কিংবা সিটি কর্পোরেশনে মেয়রের কাছে থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন। ভোটার আইডি কার্ডের জন্য আবেদন করতে হলে নাগরিক সনদপত্র লাগবেই।

শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ পত্র

আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রমাণ করার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। জেএসসি, এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার সনদপত্র এবং মারকশিট ফটোকপি করে ভোটার আবেদন ফরম পূরণ করে ফরমের সাথে জমা দিতে হবে।

তবে, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ যেমন – এসএসসি এবং এইচএসসির সনদপত্রে আপনার নাম, পিতা মাতার নাম জন্ম নিবন্ধন সনদে থাকা নামের সাথে অবশ্যই মিল থাকতে হবে। মিল না থাকলে আপনার ভোটার হওয়ার আবেদনটি বাতিল হতে পারে।

জন্ম নিবন্ধন সনদে যদি আপনার নাম, পিতা-মাতার নাম অথবা জন্ম তারিখ ভুল থাকে তবে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করার মাধ্যমে এগুলো ঠিক করে নিতে হবে।

ইউটিলিটি বিলের কপি

নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন করার সময় আবেদনে দেয়া ঠিকানা যাচাই করার জন্য ইউটিলিটি বিলের কপি নেয়া হয়। আপনার বাসার বিদ্যুৎ বিল/গ্যাস বিল/ইন্টারনেট বিল বা যেকোনো ধরনের বিলের একটি কপি ভোটার আবেদন ফরমের সাথে জমা দিবেন।

রক্তের গ্রুপ টেস্টের রিপোর্ট

আমাদের ভোটার আইডি কার্ডে রক্তের গ্রুপ উল্লেখ করে দেয়া থাকে। রক্তের গ্রুপ কী জানার জন্য এবং তা যাচাই করার জন্য রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার রিপোর্ট প্রয়োজন হয়। নতুন ভোটার আবেদন করার সময় অবশ্যই রকেট গ্রুপ টেস্টের রিপোর্ট জমা দিবেন।

হোল্ডিং ট্যাক্স রশিদ

বাসা-বাড়ির ট্যাক্স জমা দেয়া হয়েছে কিনা তা যাচাই করার জন্য হোল্ডিং ট্যাক্স রশিদ নেয়া হয়ে থাকে। আপনার নামে না থাকলেও আপনার পিতা/মাতা কিংবা পরিবারের যেকোনো সদস্যের নামে হোল্ডিং ট্যাক্স রশিদ থাকলে তা জমা দিতে হবে।

হোল্ডিং ট্যাক্স রশিদ ইউনিয়ন পরিষদ/সিটি কর্পোরেশনে ট্যাক্স প্রদান করার পর পাওয়া যায়।

স্বামী/স্ত্রীর এনআইডি কার্ডের ফটোকপি

আপনি যদি বিবাহিত হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার স্বামী/স্ত্রীর এনআইডি কার্ডের ফটোকপি কিংবা জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রয়োজন হবে। এনআইডি কার্ডে স্বামী/স্ত্রীর নাম দেখা না গেলেও এনআইডি সার্ভারে তা জমা থাকে। স্মার্ট এনআইডি কার্ডে থাকা চিপ দিয়ে সেসব তথ্য দেখা যায়।

নতুন ভোটার হতে চাইলে ভোটার আবেদন করার সময় ভোটার আবেদন ফরমে উপরোক্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে থাকা তথ্য পূরণ করতে হবে এবং কাগজপত্রগুলো ভোটার নিবন্ধন ফরমের সাথে জমা দিতে হবে। প্রতিটি কাগজপত্রে নাম,পিতা-মাতার নাম,জন্ম তারিখ ইত্যাদি একই হতে হবে। ভুল থাকলে তা সংশোধন করে তবেই আবেদন করবেন।

নতুন ভোটার নিবন্ধন শুরু হলে প্রতিটি এলাকায় মাইকিং করে জানিয়ে দেয়া হয়ে থাকে। তখন এনআইডি (NID) করতে যা যা লাগবে তা সংগ্রহ করে ইউনিয়ন পরিষদ/সিটি কর্পোরেশন গিয়ে ভোটার নিবন্ধন ফরম পূরণ করতে পারবেন।

অনলাইনে নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার নিয়ম

অনলাইনে নতুন ভোটার আইডি কার্ড করতে চাইলে https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/ ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করুন বাটনে ক্লিক করে সকল তথ্য দিয়ে একটি একাউন্ট তৈরি করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সকল ডকুমেন্ট সেখানে আপলোড করতে হবে।

এরপর, আপনার আবেদনটি অনুমোদিত হলে অনলাইনে থেকে ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করে সেটি ব্যবহার করতে পারবেন।

সাধারণত জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

ভোটার আইডি কার্ড করতে কত টাকা লাগে

ভোটার আইডি কার্ড করতে কোনো টাকা লাগেনা। অনলাইনে ফ্রিতেই ভোটার আইডি কার্ডের আবেদন করা যায়। এছাড়াও, প্রতিটি এলাকায় ভোটার নিবন্ধন শুরু হলে বিনামূল্যেই ভোটার আইডি কার্ড করা যায়।

ভোটার আইডি কার্ড পেতে কতদিন লাগে

ভোটার আইডি কার্ড পেতে ভোটার রেজিস্ট্রেশন করার পর থেকে সাধারণত ৩ মাসের মতো সময় লেগে থাকে। এর মাঝে এসএমএস করে ভোটার আইডি কার্ড হয়েছে কিনা তা জানিয়ে দেয়া হয়।

ভোটার আইডি কার্ড করতে কত বছর লাগে

ভোটার আইডি কার্ড করতে আপনার ১৮ বছর বয়স হতে হবে। তাহলে, নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করতে পারবেন।

সারকথা

আজকের এই ব্লগে আপনাদের সাথে নতুন ভোটার হতে কি কি লাগে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। নতুন ভোটার হতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকায় থাকা কাগজপত্রগুলো ভোটার নিবন্ধন করার সময় অবশ্যই সঙ্গে রাখবেন।

হোমপেজNID BD
ক্যাটাগরিNID Card
আইডি কার্ড চেকNID Card Check
স্মার্ট কার্ড চেকNID Smart Card Status Check

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *